দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শিশুর হাতে কম বয়সে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা ও গবেষণা চলছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবের নির্দিষ্ট সময়ে বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে দুর্বল কর্মস্মৃতি ও পড়াশোনার খারাপ ফলাফলের সম্পর্ক থাকতে পারে।
ফ্রান্সের ইনসার্ম এবং সিঙ্গাপুরের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ৫০২ শিশুর তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করেন। সিঙ্গাপুরে শিশুদের বেড়ে ওঠা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার আওতায় তাদের বিভিন্ন বয়সে স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে ৯ বছর বয়সে পড়াশোনার ফল এবং প্রায় সাড়ে ১০ বছর বয়সে স্মৃতিশক্তি মূল্যায়ন করা হয়।
‘ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব পেডিয়াট্রিকস’-এ প্রকাশিত গবেষণাটিতে শিশুদের ছয়টি ভিন্ন বয়সে স্ক্রিন ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। শুধু মোট কত সময় তারা স্ক্রিনের সামনে কাটিয়েছে তা নয়, কোন বয়সে স্ক্রিনের সংস্পর্শে এসেছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে এক বছর বয়সে বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানো শিশুদের পরবর্তী সময়ে পড়াশোনার ফল তুলনামূলক খারাপ হওয়া এবং কর্মস্মৃতি দুর্বল হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় ছয় বছর বয়সে বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গেও একই ধরনের খারাপ ফলাফলের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, শিশুকাল ও স্কুলজীবনের শুরুর সময়টি এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে থাকলে শিশুদের খেলাধুলা, বই পড়া এবং মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর মতো শেখা ও বিকাশে সহায়ক কর্মকাণ্ডের সময় কমে যেতে পারে। এটিই স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে শেখা ও স্মৃতিশক্তির সম্পর্কের একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
এর আগেও স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে গবেষণায় উদ্বেগের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২০ সালে কানাডার ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শেরি ম্যাডিগানের নেতৃত্বে করা এক পর্যালোচনায় ৪২টি গবেষণার ১৮ হাজার ৯০৫ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের দুর্বল ভাষাগত দক্ষতার সম্পর্ক পাওয়া যায়।
তবে শুধু স্ক্রিন দেখা নয়, শিশুরা কী দেখছে এবং কীভাবে দেখছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ওই গবেষণায় শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু দেখা এবং অভিভাবকের সঙ্গে বসে স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে ভালো ভাষাগত দক্ষতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তুলনামূলক বেশি বয়সে স্ক্রিন ব্যবহার শুরু করা শিশুদের ভাষাগত দক্ষতাও ভালো হওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে।
২০২৩ সালে ফ্রান্সের গবেষকদের আরেকটি পর্যালোচনায় ছোট শিশুদের স্ক্রিনের সংস্পর্শ ও মনোযোগের সমস্যার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। পর্যালোচনায় থাকা পাঁচটি স্বল্পমেয়াদি গবেষণার সব কটিতেই বেশি স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে মনোযোগের সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া যায়। দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করা ১০টি গবেষণার মধ্যে ছয়টিতে কম বয়সে স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে মনোযোগের সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও চারটি গবেষণায় স্পষ্ট কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
/অ